রবিবার, ১২ জুলাই ২০২০, ০২:৪৪ পূর্বাহ্ন

চৌগাছা নোভা এইড হাসপাতালে প্রি-একলেমশিয়া গর্ভবতী মায়ের সিজারঃ রক্তক্ষরণে নাজমা খাতুনের মর্মান্তিক মৃত্যু

যশোরের চৌগাছায় নোভা এইড হাসপাতালে ডাক্তারের অবহেলার কারণে এক গর্ভবতী মায়ের মৃত্যু হয়েছে। প্রি-একলেমশিয়া থাকা সত্বেও ক্লিনিকে প্রয়োজনীয় সার্জিক্যাল সাপোর্ট বাদেই ঝুঁকিপূর্ণ এই অপারেশন করা হয়। ফলে রক্তক্ষরণ হয়ে গর্ভবতী মা মারা যান। এ নিয়ে এলাকায় চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
সূত্র জানায়, গত ১ জুন উপজেলার লস্কারপুর গ্রামের নাজমা খাতুন (২৫) গর্ভবতী অবস্থায় মেডিনোভা ক্লিনিকে সিজারের জন্য ভর্তি হন। এর আগে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হলে রোগীর প্রি-একলেমশিয়া থাকার কারণে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ যশোর ২শ ৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে রেফার করেন।
কিন্তু রোগীর আত্নীয় স্বজন গুরুতর ওই রোগীকে যশোর সদর হাসপাতালে নেওয়ার প্রাককালে হাসপাতাল চত্ত্বরে ক্লিনিকের দালালদের খপ্পরে পড়ে। এক পর্যায়ে সফল অপারেশনের নিশ্চয়তা দিয়ে রোগীকে চৌগাছা হাসপাতাল গেটের সামনে নোভা এইড নিয়ে যেয়ে ভর্তি করানো হয়।
রোগীর পরিবারের লোকজন অভিযোগ করেন, ভর্তির পরে নাজমার শুধু রক্তের গ্রুপ টেস্ট ছাড়া আর কোন পরীক্ষা হয় নি। এদিনেই ১ জুন সিজার করার পরে রোগীর অবস্থা খারাপের দিকে যায়। রোগীর রক্তক্ষরণ বন্ধ করতে না পেরে তাকে যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায় ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ। কিন্তু সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক রোগীর অবস্থা আশংকজন হওয়া ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন। ২ জুন রোগীকে ঢাকায় নিয়ে যাওয়া পরে তার চিকিৎসার কোন উন্নতি না হলে গত ৪ জুন সে মারা যায়। এ নিয়ে এলাকার মানুষের মাঝে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ ও ডাক্তার সুব্রত কুমার বাগচী রোগীর প্রি-একলেমশিয়া থাকা সত্বেও পরীক্ষা নিরীক্ষা না কিভাবে তাকে ভর্তি করে সিজার করলেন এ নিয়ে এলাকায় নানা গুঞ্জন চলছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ব্যক্তি জানান, হাসপাতাল থেকে গর্ভবতী অনেক রোগী যশোরে রেফার করা হয়। ও ক্লিনিকের কয়েকজন দালাল সারাদিন হাসপাতালের গেটে ভিড় করে থাকে। তারা রোগীর অভিভাবকদের ফুসলিয়ে ও নানা প্রলোভন দেখিয়ে ওই ক্লিনিকে ভর্তি করান। কিন্তু ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ ও একজন অভিজ্ঞ গাইনী ডাক্তার কিভাবে প্রি-একলেমশিয়া রোগীকে সিজার করলেন সেটা ভাববার বিষয়। এদিকে নাজমা খাতুনের মৃত্যুও পরপরই ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ মোটা অংকের টাকা দিয়ে রোগীর পরিবারকে ম্যানেজ করেছেন বলে জানা গেছে।
একাধিক সূত্র জানায়, নোভা এইড হাসপাতালে গাইনী ডাক্তার সুব্রত কুমার বাগচী চৌগাছা হাসপাতালে কর্মরত ছিলেন। তিনি বর্তমানে ওই ক্লিনিকে কর্মরত। ক্লিনিকের দালালরা এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে বেশির ভাগ রেফার করা গর্ভবতী রোগীদেরকে ওই ক্লিনিকে ভর্তি করিয়ে মুনাফা লুটে নিচ্ছে। করোনাকে পুজি করে দালালচক্র এই কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন বলে হাসপাতালের কয়েকজন কর্মচারী অভিযোগ করেন।

হাসপাতাল গেটের এক দালাল  জানান, ক্লিনিকের গাইনী ডাক্তার সুব্রত কুমার বাগচী বর্তমানে নড়াইল সদর হাপসপাতালে কর্মরত আছেন। তিনি প্রতিদিনই ওই ক্লিনিকে সিজার করে থাকেন। এছাড়া সকারি হাসপাতালের ডিউটির সময়ও তাকে ক্লিনিকে নিজস্ব চেম্বারে দেখা যায়। বিগত এক বছর আগেও ওই ক্লিনিকে ডাক্তার সুব্রত কুমার বাগচীর নামে অভিযোগ উঠে আসে।
সচেতন মহলের একজন জানান, সরকার কোভিড-১৯ মহামারির কারণে প্রাইভেট ক্লিনিক ও চেম্বারে রোগী না দেখার জন্য বারবার তাগিদ দিলে সেই নির্দেশ উপেক্ষা করে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ ও ডাক্তাররা বেআইনীভাবে অধিক মুনাফার আশায় এ ধরনের কর্মকান্ড চালিয়ে আসছেন। তিনি এ বিষয়ে সঠিক তদেন্তর জন্য সংশ্লিষ্ঠ কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে সিজারিয়ান ডাক্তার সুব্রত কুমার বাগচীর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন রোগীর প্রি-একলেমশিয়া ছিলো তাই সিজার করার পরে তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। আমার চিকিৎসায় ও সিজারে কোনো ভুল ছিলোনা।
এ ব্যপারে নোভা এইড হাসপাতালের পরিচালক নজরুল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ভুল তো মানুষের হয়। ওই রোগী কিডনির সমস্যা ও জন্ডিসে আক্রান্ত ছিলেন। যেটা আমরা জানতাম। কিডনি ফেল হওয়ার ফলে কোন ঔষধ কাজ করেনি। রোগীকে বাঁচানোর জন্য আমরা মেডিনোভার পক্ষ থেকে সর্বাত্নক চেষ্টা করেছি।
এদিকে দুপুরে নোভা এইড হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ওই রোগীর পরিবারকে মোটা অংকের টাকা দিয়ে ম্যানেজ তড়িঘড়ি করে লাশ দাফনের কাজ সম্পন্ন করেছে বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে।

 

স্যোশাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন....

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

নতুন ভিজিটর

বিশ্বে করোনা ভাইরাস

বাংলাদেশে

আক্রান্ত
১৮১,০৭৬
সুস্থ
৮৮,০৩৪
মৃত্যু
২,৩০৫
সূত্র: আইইডিসিআর

বিশ্বে

আক্রান্ত
১২,৪৯৭,৭৪৬
সুস্থ
৬,৮৮১,৫০৭
মৃত্যু
৫৬০,১৯৪
©All rights reserved ©bdnewstoday
কারিগরী সহায়তা: মোস্তাফী পনি