শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২০, ০৬:৩৫ পূর্বাহ্ন

কেন্দুয়ায় করোনাকেও হার মানিয়েছে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি

কিশোর কুমার কেন্দুয়া (নেত্রকোণা) প্রতিনিধিঃ “শেখ হাসিনার উদ্যােগ, ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ”এই উক্তিটি এখন সরকারি উদ্যোগ বাস্তবায়নের অন্যতম প্রধান খাত হিসেবে দেশব্যাপী বিদ্যুৎ খাতের উত্তরণ এখন দৃশ্যত। দুর্নীতির দরুন দুর্ভাগ্য আমাদের কোনভাবেই পিছু ছাড়ছে না এ ভূতুরে বিলের জন্য। আর করোনা মহামারী চেয়েও আতঙ্কিত হয়ে আছে প্রায় ৭০হাজার গ্রাহক।

নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়া পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি যান্ত্রিকত্রুটি, সিষ্টেমলস, মিটারে বিলচুরি, সংযোগে ভোগান্তির সমস্যা এখন মহামারী করোনাকেও হার মানিয়েছে এ যাদুঘর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি।

এ মনগড়া ভৌতিক বিলের খড়গ চাপিয়ে ভোগান্তিসহ গ্রাহকের টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ রয়েছে কেন্দুয়া পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির বিরুদ্ধে।

সোমবার ২৯জুন দুপুর ১২টার সময় সরজমিনে দেখা যায় নানান অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা ও স্বেচ্ছাচারিতার গ্যাড়াকল। গ্রাহকদের ভোগান্তি ও আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে প্রায় ৭০হাজার গ্রাহকের। এমনকি মহামারী করোনা কালেও গ্রাহকের স্বার্থে দেয়া সরকারি নির্দেশনাও মানছেন না কেন্দুয়া পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি।

কেন্দুয়া পৌর শহরের ৯নং ওয়ার্ডের নল্লা গ্রামের হারুনুর রশিদের অভিযোগে জানা যায়, জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি-মার্চ এই তিন মাসের বিল যোগ করে যা হয়েছে তার চেয়েও এপ্রিল মাসের বিল তিন গুন হয়েছে। এটা কোন জাতীয় গড় বিল নয়, পল্লী বিদ্যুৎ একবার যে বিলের বোঝা গ্রাহকের ঘাড়ে চাপায় তা আদায় করেই ছাড়ে। পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিকে যারা বিশ্বাস করে তারাই ভবে মরে।

এদিকে উপজেলার কীর্তনখলা গ্রামের সাংবাদিক দুলাল মিয়া বলেন-বিদ্যুৎ নিয়ে ভেলকি বাজি আর কত হবে। মার্চ, এপ্রিল ও মে মাস তিন মাসের বিদ্যুৎ বিল হল ৭৮৯টাকা আর শুধু জুন মাসের বিল এসেছে ৭৫৬টাকা আবার মিটার রিডিংও আবার ঠিক আছে। এটা গ্রাহকের কোন সেবা নয়। এ যেন রঙ্গ তামাশা ছাড়া আর কিছুই না। আরো বলেন, পল্লী বিদ্যুৎ হয়ে গেছে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি। যা বাংলার মানুষের রক্ত চুষে খেতে শুরু করেছে।  বিল সংশোধন করতে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির অফিসে এসেও হয় রানির স্বীকার হন গ্রাহকরা।

পৌর শহরের শান্তিবাগ মহল্লার লিখন শর্মা বলেন, এ যেন গোদের উপর বিষফোঁড়া, একদিকে করোনা সংকট মোকাবিলায় সরকার ঘোষিত লকডাউন বা সাধারণ ছুটিতে কর্মহীন ঘরবন্দি মানুষের আর্থিক ও খাদ্য সংকটে জীবন-জীবিকা নাভিশ্বাস বিদ্যমান।
এ পরিস্থিতিতে বিদ্যুৎ বিলে বিলম্ব মাসুল মওকুপসহ গ্রাহকদের ভোগান্তি কমাতে সরকার নির্দেশনাকেও মানছেন না। গড়বিলের কথা বলে দ্বিগুন বা তিনগুন বেশী ভৌতিক বিলের বোঝা গ্রাহকের ঘাড়ে চাপিয়েছে কেন্দুয়া পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কর্তৃপক্ষ।
আবার সময়মতো বিল পরিশোধে ব্যর্থ হলেই লাইন ডিসকানেক্ট করবে এবং পূন:সংযোগ দেয়ার সময় গ্রাহকের আর্থিক ক্ষতির সাথে ভোগান্তিও রয়েছে।

করোনার সময় কোন গ্রাহকের বাড়ী যাওয়া যাবে না বলে মিটার না দেখে বিল করেছেন, কিন্তু বিলের কাগজ ঠিকই বাড়ী বাড়ী গিয়ে বিলি করেছেন এবং প্রস্তুতকৃত বিল বেশী হয়েছে কম হয়নি কেন, প্রতিবেদকের এমন প্রশ্নের কোন উত্তর দিতে পারেননি কেন্দুয়া পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কর্তৃপক্ষ।

কেন্দুয়া পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার প্রকৌশলী ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, করোনাকালে কর্তৃপক্ষের নির্দেশনায় গড় বিল করা হয়েছে। অতিরিক্ত বিলের সমস্যা যাদের হয়েছে তাদের বলেছি পরবর্তী মাসের বিলের সাথে সমন্বয় করে দেয়া হবে।

স্যোশাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন....

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

নতুন ভিজিটর

বিশ্বে করোনা ভাইরাস

বাংলাদেশে

আক্রান্ত
১৭৫,৪৪১
সুস্থ
৮৪,৫৪৪
মৃত্যু
২,২৩৮
সূত্র: আইইডিসিআর

বিশ্বে

আক্রান্ত
১২,০৪০,৭৫৯
সুস্থ
৬,৪৪৩,৯৭৭
মৃত্যু
৫৪৪,১৪৭
©All rights reserved ©bdnewstoday
কারিগরী সহায়তা: মোস্তাফী পনি