শনিবার, ১১ জুলাই ২০২০, ১২:৪৩ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম:
করোনার ঝুঁকিতেই স্কুল খুলতে ট্রাম্পের নির্দেশ পেকুয়ায় প্রয়াত দুই নেতার স্মরণে খতমে কোরআন ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত গলাচিপায় বিলুপ্তর পথে বাবুই পাখির বাসা রংপুর মহানগর জাতীয় যুবসংহতির পুর্নাঙ্গ কমিটি ঘোষণা, মুল নেতৃত্বে জাকির-শান্তি-আনছার বাঘারপাড়ায় উৎসবমুখর পরিবেশে ছাত্রলীগের বৃক্ষরোপণ টেকনাফে ২০ হাজার ইয়াবাসহ রোহিঙ্গা আটক-১  টেকনাফ বাহারছড়ার ইউপি চেয়ারম্যান করোনা পজেটিভ। সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মৃত্যুতে খাগড়াছড়ি পৌর মেয়র’র শোক কুষ্টয়িার দৌলতপুর সীমান্ত থেকে ৫ চোরাকারবারীকে আটক করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বিএসএফ । যশোরে আইসোলেশন ওয়ার্ডে করোনা উপসর্গ নিয়ে একজনের মৃত্যু

এনসিটিবি বিপাকেঃ উচ্চ মাধ্যমিকের বই ছাপানো সংকট

এইচ এস সি শিক্ষার্থীদের জন্য উচ্চ মাধ্যমিকের বই বাজারজাত করার টেন্ডার প্রক্রিয়া শেষ করতে পারেনি জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)। করোনা পরিস্থিতির কারণে বিপাকে প্রতিষ্ঠানটি। কবে টেন্ডার দেওয়া হবে তার দিনক্ষণ এখনো পর্যন্ত নির্ধারণ করতে পারেনি।
অপর দিকে মরিয়া হয়ে উঠেছে অসাধু সিন্ডিকেট।  ঢাকার বাংলাবাজারকেন্দ্রিক গড়ে ওঠা  চক্রটি চাহিদার তুলনায় কম বই ছাপার কার্যাদেশ এবং সরকারের রয়্যালটি ফাঁকি দিতে জোট বেঁধেছে বলে জানা গেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বইয়ের কার্যাদেশ নিজেদের কব্জায় নিতে ইতোমধ্যে তদবিরও শুরু করেছেন তারা। কয়েকটি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান সিন্ডিকেট করে উচ্চমাধ্যমিকের বইয়ের দাম বাড়ালেও এবার কঠোর অবস্থানে রয়েছে এনসিটিবি।
এনসিটিবির সূত্র জানায়, বর্তমানে বই ছাপার কাঁচামালের দাম বাড়েনি। তাই বইয়ের দামও বাড়ানোর সুযোগ নেই। বরং বাজারে কাগজের দাম যাচাই করে বইয়ের দাম কমানো হবে। কোনোভাবেই এবার বইয়ের দাম বাড়তে দেওয়া হবে না। বাজার সিন্ডিকেট ভাঙতে প্রয়োজনে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

জানা গেছে,  উচ্চমাধ্যমিকের তিনটি বইয়ের সঙ্গে আরও একটি নতুন বই যুক্ত হচ্ছে। বইটি হলো তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি)। প্রথমবারের মতো এ বইটি বাজারজাত করবে এনসিটিবি। করোনা ভাইরাসের মহামারির মধ্যে একাদশ শ্রেণির ক্লাস শুরুর আগেই বইগুলো বাজারজাত করা হবে বলে জানিয়েছেন এনসিটিবির কর্মকর্তারা।
এ বিষয়ে এনসিটিবির চেয়ারম্যান প্রফেসর নারায়ণ চন্দ্র সাহা বলেন, উচ্চমাধ্যমিকের চারটি বই মুদ্রণে টেন্ডার প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। ইতোমধ্যে পুরনো তিনটি বইয়ের সিডিউল তৈরি করা হয়েছে। আগামী দু-একদিনের মধ্যে নতুন যুক্ত হওয়া আইসিটি বইয়ের দাম কমিটি কর্তৃক নির্ধারিত হলেই আমরা অফারিং পদ্ধতিতে টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করব। তিনি আরও বলেন, লেখক জাফর ইকবাল আইসিটি বইটি লিখছেন। বইটি হাতে পেলেই দাম নির্ধারণ করা হবে। তবে এবার বইয়ের দাম বাড়ার সুযোগ নেই বরং বাজারে কাগজের মূল্যে যাচাই করে বইয়ের দাম কমানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
এনসিটিবির সূত্র জানিয়েছে, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের পাঠ্যবই বিনামূল্যে দেওয়া হলেও উচ্চমাধ্যমিক স্তরে ছাত্রছাত্রীদের পাঠ্যবই কিনে পড়তে হয়। একাদশ শ্রেণির ৩০টি বিষয়ের মধ্যে বাংলা সাহিত্য, বাংলা সহপাঠ (উপন্যাস ও নাটক) এবং ইংরেজি প্রথমপত্র (ইংলিশ ফর টুডে)-এ তিনটি বই এনসিটিবি নিজস্ব লেখক দিয়ে লিখিয়ে বেসরকারি প্রকাশকদের মাধ্যমে ছাপিয়ে বাজারজাতকরণ করে। এর সঙ্গে এবার আইসিটি বইটি যুক্ত হচ্ছে। জানা গেছে, ১৬ লাখ ৯০ হাজার শিক্ষার্থী পাস করায় এ বছর অন্তত ২২ লাখ পাঠ্যবই ছাপানো হবে। এসব বইয়ের জন্য এনসিটিবি সাড়ে ১১ শতাংশ রয়্যালটি নেয়। এ খাতে এনসিটিবি প্রতি বছর প্রায় পাঁচ কোটি টাকা আয় করে। ২০১৩ সাল পর্যন্ত এনসিটিবি একাদশ শ্রেণির বই বাজারজাত করত। প্রতি বছর লোকসানের কারণে ২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষ থেকে অফারিং পদ্ধতিতে ১৭ প্রকাশকের মাধ্যমে বাজারজাত করে আসছে। এ ১৭টি প্রতিষ্ঠান থেকে বাংলাবাজারকেন্দ্রিক গড়ে উঠা সিন্ডিকেটের মূল হোতা। তারা প্রতি বছর বিনামূল্যের পাঠ্যবই ছাপানোর সময় কৃত্রিম সংকট তৈরি করে থাকে। এদের হাত অনেক লম্বা। অভিযোগ রয়েছে, উচ্চমাধ্যমিকের বই বাজারজাতের কাজ দেওয়ায় নানা অনিয়ম রয়েছে। প্রকাশকরা এনসিটিবির কয়েকজন অসাধু কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করে বইয়ের দাম বাড়িয়ে নেন।
সিন্ডিকেটমুক্ত টেন্ডার প্রক্রিয়া ব্যাপারে জানতে চাইলে এনসিটিবির সদস্য (পাঠ্যপুস্তক) অধ্যাপক ফরহাদুল ইসলাম বলেন, উচ্চমাধ্যমিকের বইয়ের কাজ ভাগিয়ে নিতে একটি চক্র রয়েছে যারা খুবই তৎপর থাকে। সিন্ডিকেট করে এ চক্রটি বই ছাপার কার্যাদেশ নিলে কাজ করে মাত্র দু-তিনটি প্রতিষ্ঠান। বাকিদের টাকা দিয়ে সামলিয়ে নেয়। তিনি বলেন, এবার সিন্ডিকেটমুক্ত করতে টেন্ডার ও সিডিউল কীভাবে করা যায় তার উপায় খুঁজছি। সিপিটিইউসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মতামত নেওয়া হয়েছে। এবার প্রতিযোগিতামূলক টেন্ডারের মাধ্যমে উচ্চমাধ্যমিকের বই বাজারজাত করা হবে। সিন্ডিকেট কিংবা ব্যক্তিগত যে কারও কাছেই মাথা নত করার সুযোগ নেই। এনসিটিবির সদস্য আরও বলেন, গতবার শিক্ষাউপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী স্যারের সরাসরি হস্তক্ষেপের কারণে অসাধু সিন্ডিকেট তাদের উদ্দেশ্য হাসিল করতে পারেনি। একটি সিন্ডিকেট তৎপরতা চালিয়ে কোনো সুবিধা করতে পারেনি। এবারও শিক্ষাউপমন্ত্রী এ বিষয়টি কঠোর মনিটরিং করছেন।
সূত্র জানায়, ২০১৭ সালে প্রকাশকদের চাপে বইয়ের দাম ১৫ শতাংশ বাড়ানো হয়। পরের বছর দাম বাড়ানো হয়নি। গত বছর কাগজ, প্লেট, কালিসহ বই ছাপানো ও বাঁধাইয়ের উপকরণের দামও কম ছিল। বইয়ের পৃষ্ঠা সংখ্যা ও এনসিটিবির রয়্যালটি বাড়ায়নি। তারপরও বইয়ের দাম বাড়ানো হয়েছে। এনসিটিবি সূত্র জানায়, গত বছর বাংলা বইয়ের দাম নির্ধারণ করা হয় ১৪২ টাকা; যা আগের বছর ছিল ১৩০ টাকা। বাংলা সহপাঠের (উপন্যাস ও নাটক) দাম নির্ধারণ করা হয় ৭২ টাকা, যা আগের বছর ছিল ৬৩ টাকা। উভয় বইয়ের দাম যথাক্রমে সোয়া ৯ ও সোয়া ১৪ শতাংশ বাড়ানো হয়। ২০১৭ সালে বাংলা বইয়ের দাম ছিল ১১৩ টাকা, সহপাঠের দাম ছিল ৫৫ টাকা ও ইংরেজি বইয়ের দাম ছিল ৮১ টাকা। এর আগে ২০১৬ সালেও বইয়ের দাম বাড়ানো হয়েছিল। তখন এক লাফে বাংলা বইয়ের দাম ৪৫ থেকে ১১৩ টাকা করা হয়েছিল। অন্য বইয়ের দামও একই হারে বাড়ানো হয়। অভিযোগ রয়েছে এ কমিটিকে ম্যানেজ করে প্রকাশকরা বইয়ের দাম বাড়িয়ে প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ টাকা হাতিয়ে নেন। সাড়ে চার বছর ধরে এনসিটিবিতে কর্মরত একজন শীর্ষ কর্মকর্তা শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন। তিনি প্রকাশক ও মুদ্রাকরদের অনৈতিক সুবিধা দিয়ে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছেন।
সরকারিভাবে বই ছাপানোর অনুমতির আগে নকল বই বাজারজাতকরণ ও টেন্ডার প্রক্রিয়ায় কোনো সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীর জায়গা নেই বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন এনসিটিবির চেয়ারম্যান।
তিনি বলেন, মহামারির কারণে এবার ক্লাস শুরু হতে একটু দেরি হবে। তবে আমরা ক্লাস শুরুর আগেই শিক্ষার্থীদের হাতে বই পৌঁছে দেব। প্রফেসর নারায়ণ চন্দ্র সাহা আরও জানিয়েছেন, ১ জুলাই একাদশ শ্রেণির ক্লাস শুরু হলেও শিক্ষার্থীরা সময়মতো বই পেয়ে যাবে। বই নিয়ে কোনো সমস্যা হবে না। গত বছর বাংলা, বাংলা সহপাঠ ও ইংরেজির প্রতিটি বই ৯ লাখ ৬০ হাজার কপি করে মুদ্রণ ও বিক্রির অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। এবার ১৬ লাখ শিক্ষার্থী পাস করেছে। তিন থেকে চার লাখ শিক্ষার্থী ভর্তি হবে না, কেউ পুরনো বই পড়বে এসব হিসাব করে প্রতি বিষয়ে ১৩ লাখ বই বিক্রির অনুমোদন দেওয়া হবে।

স্যোশাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন....

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

নতুন ভিজিটর

বিশ্বে করোনা ভাইরাস

বাংলাদেশে

আক্রান্ত
১৭৮,৩৯০
সুস্থ
৮৬,৪০৬
মৃত্যু
২,২৭৫
সূত্র: আইইডিসিআর

বিশ্বে

আক্রান্ত
১২,২৬৭,৭৯৭
সুস্থ
৬,৭৩৯,৪৭৩
মৃত্যু
৫৫৪,৯০৮
©All rights reserved ©bdnewstoday
কারিগরী সহায়তা: মোস্তাফী পনি