বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২০, ০৪:১২ পূর্বাহ্ন

বিদেশ যেতে খালেদার আবেদন প্রস্তুত

অবশেষে রাজনীতিকে বিদায় জানিয়ে বিদেশে যাওয়ার জন্যে বেগম খালেদা জিয়ার পক্ষ থেকে একটি আবেদন তৈরি করা হয়েছে। বেগম জিয়া এই আবেদনটি দেখেছেন এবং আবেদনটি সরকারের কাছে জমা দেওয়ার জন্যে অনুমোদনও দিয়েছেন। কিন্তু আগস্ট মাস শোকের মাস হওয়ার কারণে এখন বেগম খালেদা জিয়ার পক্ষ হতে কেউই সরকারের নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে সাক্ষাতের সময় পাচ্ছেন না। বিশেষ করে এর আগে বেগম খালেদা জিয়ার জামিনের সময় বেগম খালেদা জিয়ার পরিবারের দুজন সদস্য প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাত করেছিলেন। এবারও এরকম আবেদন জমা দেওয়ার সময় তারা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাত করতে চান, প্রধানমন্ত্রীর কাছেই তারা আবেদনটি দিতে চান। এই কারণেই তারা সময় নিচ্ছেন বলে একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র নিশ্চিত করেছে।

বেগম খালেদা জিয়ার পরিবারের একজন সদস্য বলছেন যে, প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন দেওয়াটাই সবচেয়ে ভালো কাজ। তিনি অনেক দ্রুত কাজ করেন এবং স্পষ্ট কথা বলেন। যেটা তিনি পারবেন সেটাই বলে দেন এবং সঙ্গে সঙ্গে কাজ হয়, কাজেই প্রধানমন্ত্রী ছাড়া অন্য কারো কাছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বা আইন মন্ত্রণালয়ে আবেদনটি দেওয়ার কোন অর্থ নেই বলেই মনে করছেন বেগম খালেদা জিয়ার পরিবারের ওই সদস্য। একারণে তারা প্রধানমন্ত্রীর সময়ের অপেক্ষা করছেন। কিন্তু শোকের মাসে প্রধানমন্ত্রী পারতপক্ষে কারো সঙ্গে সাক্ষাত দেননা। তাছাড়া এখন করোনা সংক্রমণের কারণে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের ক্ষেত্রে বেশকিছু বিধিনিষেধ আরোপ রয়েছে। এই প্রেক্ষিতে শেষ পর্যন্ত বেগম খালেদা জিয়ার পরিবারের এই দুই সদস্য প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাত করতে পারবেন কিনা সেটা নিয়েও সংশয় রয়েছে। তবে বেগম খালেদা জিয়ার পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে যে, তারা চেষ্টা করছেন। শেষ পর্যন্ত যদি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাত না হয়, তিনি হয়তো এই আবেদনের ব্যাপারে একটি ফয়সালা দিবেন। বেগম খালেদা জিয়ার যে আবেদনটি করা হয়েছে তাতে তিনটি বিষয় রয়েছে।

প্রথমত, বেগম খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন তাকে ৬ মাসের জামিন দেওয়ার জন্যে। কিন্তু খালেদা জিয়া বলেছেন যে, তিনি এখনো অসুস্থ এবং করোনার কারণে তার উন্নত চিকিৎসা ব্যহত হচ্ছে। এই কারণে তার জামিনের মেয়াদ আরো বৃদ্ধি করা প্রয়োজন এবং এই সময়ে তিনি চিকিৎসা করতে চান।

দ্বিতীয়ত, বেগম খালেদা জিয়ার যে অসুস্থতা সেই অসুস্থতার চিকিৎসা বাংলাদেশে করা কঠিন, কষ্টসাধ্য এবং প্রায় অসম্ভব। এই কারণে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্যে যেন বিদেশে যেতে অনুমতি দেওয়া হয়। কারণ এর আগে বেগম খালেদা জিয়া লন্ডনে এবং সৌদি আরবে এই ধরণের চিকিৎসা করেছিলেন।

তৃতীয়ত, বেগম খালেদা জিয়া বিদেশে অবস্থানকালে কোন ধরণের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে নিজেকে সম্পৃক্ত রাখবেন না। শুধুমাত্র চিকিৎসার জন্যেই তার মুক্তি কার্যক্রমটি ব্যবহৃত হবে। অর্থাৎ চিকিৎসা ছাড়া তিনি অন্য কোন কর্মকাণ্ডে জড়াবেন না। এই রকম আবেদনের প্রেক্ষিতে বেগম খালেদা জিয়ার জামিনের মেয়াদ বৃদ্ধি করা হতে পারে বলে একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে যে, বেগম খালেদা জিয়া জামিন বৃদ্ধির ব্যাপারে এক ধরণের সবুজ সংকেত পেয়েছেন বলেই এই আবেদনটির খসড়া তৈরি করা হয়েছে। উল্লেখ্য যে, ২৫ মাস কারাভোগের পর গত ২৫ মার্চ বেগম খালেদা জিয়াকে প্রধানমন্ত্রীর অনুকম্পায় এবং বিশেষ বিবেচনায় জামিন দেওয়া হয়। এই জামিন পাওয়ার পর বেগম খালেদা জিয়া তার গুলশানের বাসভবন ফিরোজায় অবস্থান করছেন। এই সময়ে তিনি কোন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করেননি। এমনকি তিনি কোন ধরণের বক্তৃতা-বিবৃতিও দেননি। শুধুমাত্র দুই ঈদে তিনি বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাত করেছেন।

বেগম খালেদা জিয়ার পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে যে, এই সময়ে বেগম খালেদা জিয়া জামিনের কোন শর্ত লঙ্ঘন করেননি এবং যে সমস্ত লিখিত-অলিখিত শর্ত ছিল সেগুলো মেনেই তিনি মুক্ত জীবনযাপন করেছেন। তবে বেগম খালেদা জিয়ার পরিবারের সদস্যরা বলেছেন যে, এই সময়ে করোনা সংক্রমণ থাকার জন্যে তাকে কোন হাসপাতালে নেওয়া হয়নি এবং বেগম খালেদা জিয়ার একটি পছন্দের চিকিৎসক দল তার নিয়মিত পরীক্ষা করছেন। এই চিকিৎসক দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন লন্ডন থেকে তারেক জিয়ার স্ত্রী ডা. জোবাইদা রহমান। এই চিকিৎসা যথেষ্ট নয় বলে বেগম খালেদা জিয়ার পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে। তারা মনে করছেন যে, তার উন্নততর চিকিৎসা দরকার। এখন যেহেতু লন্ডনসহ বিভিন্ন উন্নত দেশে যাওয়া যাচ্ছে, একারণেই বেগম খালেদা জিয়ার পক্ষ থেকে জামিনের মেয়াদ বৃদ্ধির আবেদন এবং বিদেশ ভ্রমণের অনুমতির আবেদন করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।

উল্লেখ্য যে, আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর বেগম খালেদা জিয়ার বর্তমান জামিনের মেয়াদ শেষ হয়ে যাচ্ছে।

স্যোশাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Recent Comments

    Archives

    © All rights reserved
    কারিগরী সহায়তা: মোস্তাফী পনি