বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২০, ০৪:৩২ পূর্বাহ্ন

কোন পরিচয়ে পরিচিত পাপন?

নাজমুল হাসান পাপন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি, আওয়ামী লীগের এমপি, বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালসের অন্যতম নীতিনির্ধারক। কিন্তু কোন পরিচয়ে তিনি পরিচিত হবেন? এসব পরিচয় ছাপিয়ে পাপনের সবথেকে বড় পরিচয় হলো তিনি প্রয়াত জিল্লুর রহমান এবং আইভি রহমানের সন্তান। ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার কথা আসলেই আমাদের দৃশ্যপটে যে ভয়ঙ্কর দৃশ্যগুলো ভেসে ওঠে তার মধ্যে রয়েছে আইভি রহমানের রক্তাক্ত নিথর দেহটি। ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় তাঁর পায়ে গ্রেনেড লেগেছিল। এরপর জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে চার দিন থাকার পরে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

কিন্তু আইভি রহমানের চেয়েও রাজনীতিতে আলোকিত ছিলেন জিল্লুর রহমান। তিনি আওয়ামী লীগের দুঃসময়ের কাণ্ডারি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বিশ্বস্ত, ঘনিষ্ঠ অনুচর এবং ’৭৫ পরবর্তীতে আওয়ামী লীগে যারা শেখ হাসিনার পক্ষে নিরঙ্কুশভাবে অবস্থান গ্রহণ করেছিলেন, যাঁদের আদর্শিক কোন বিচ্যুতি ছিলনা তাঁদের মধ্যে জিল্লুর রহমান অন্যতম। বিশেষ করে ওয়ান ইলেভেনে তিনি নীতি এবং আদর্শের এক কঠিন পরীক্ষায় উর্ত্তীর্ণ হন। দলকে ঐক্যবদ্ধ রাখার ক্ষেত্রে তিনি প্রাজ্ঞতা এবং বিচক্ষণতার পরিচয় দেন।

আওয়ামী লীগের এই দুই মহীরুহ নেতার সন্তান হলেও রাজনীতির বিষয়ে নাজমুল হাসান পাপন তেমন আলোচিত নন। বরং তিনি নির্বাচনে এমপি হয়েছেন শুধুমাত্র পিতার ছেড়ে দেওয়া আসনের জন্যেই। রাজনীতিক বিষয়ে তাকে খুব একটা আগ্রহী দেখা যায় না। বরং কর্পোরেট সংস্কৃতি এবং ক্রিকেট বোর্ড নিয়েই তিনি ব্যতিব্যস্ত থাকেন। জিল্লুর রহমান বা আইভি রহমানের যে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড, রাজনীতির সঙ্গে বসবাসের সংস্কৃতি- সেই সংস্কৃতি পাপন খুব কমই ধারণ করেছেন। বরং রাজনৈতিক বিষয়ে তাকে এক ধরণের অনাগ্রহীই দেখা যায়। রাজনীতিতে পাপনের প্রধান পরিচয় হলো তিনি জিল্লুর রহমান এবং আইভি রহমানের সন্তান। রাজনীতিবিদের চেয়ে পাপন বিসিবি সভাপতি হিসেবে বেশি আলোচিত এবং পরিচিত। তিনি বিসিবি সভাপতি হিসেবে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করছেন। এর মধ্যে তাঁর সুনাম-দুর্নাম দুই রয়েছে। বিশেষ করে তিনি তাঁর নিজের লোকজনকে বিসিবির নেতৃত্বে এনে বিসিবিকে অকার্যকর করে ফেলেছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। আবার কর্পোরেট যুগে ক্রিকেটের আর্থিক ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে একটি শক্ত ভিত্তি তৈরি করেছেন এবং বিসিবিকে একটি ধনী ক্রিকেট বোর্ড হিসেবে স্বীকৃতি পাইয়ে দিয়েছেন। নতুন নতুন ক্রিকেটার তৈরি এবং ক্রিকেটের ক্ষেত্রে বিশ্বায়নের প্রতিযোগিতায় বিসিবিকে টিকিয়ে রাখতে তাঁর নেতৃত্ব প্রশংসিত। বিশেষ করে ক্রিকেটারদেরকে একটি পারিবারিক বন্ধনে রাখার ক্ষেত্রেও পাপন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।

তবে বিসিবির সভাপতির থেকেও পাপনের বড় পরিচয় হলো তিনি একজন কর্পোরেট ব্যক্তিত্ব। বেক্সিমকোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন এবং এখনো বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালসের নীতিনির্ধারক। একজন কর্পোরেট ব্যক্তিত্ব হিসেবেই তিনি তাঁর ক্যারিয়ারকে বিকশিত করেছেন, রাজনীতিবিদ হিসেবে নন। বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালসের দুর্দিনে, বিশেষ করে ওয়ান ইলেভেনের সময় এই প্রতিষ্ঠানকে টিকিয়ে রাখা এবং সঙ্কটের মধ্যেও প্রতিষ্ঠানকে বিকশিত করার ক্ষেত্রে তিনি প্রশংসিত হয়েছিলেন। বাংলাদেশে যারা কর্পোরেট ব্যক্তিত্ব রয়েছেন, তাঁদের তালিকায় প্রথম দিকে নিশ্চয়ই পাপনের নাম আসবে। ত্রিমাত্রিক পরিচয়ে পাপন নিজেকে যতই কর্পোরেট ব্যক্তিত্ব হিসেবে ভাবুক বা বিসিবির সভাপতি হিসেবে ভাবুক না কেন, সবকিছুর মূলে তিনি জিল্লুর রহমান এবং আইভি রহমানের সন্তান। এটা তাঁর অন্য সব পরিচয়কে ছাপিয়ে যায়। আর এজন্যেই নাজমুল হাসান পাপন আলোচিত।

বাংলাদেশে অনেক কর্পোরেট ব্যক্তিত্ব আছেন বা অনেকেই বিসিবির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন, ভবিষ্যতেও করবেন। কিন্তু জিল্লুর রহমান এবং আইভি রহমানের মতো রাজনৈতিক দম্পত্তির সন্তানের পরিচয়টিকে পাপনের কাছ থেকে কেউ কেড়ে নিতে পারবে না।

স্যোশাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Recent Comments

    Archives

    © All rights reserved
    কারিগরী সহায়তা: মোস্তাফী পনি